করোনা কালীন শিশুদের মানসিক বিকাশ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

বাংলাদেশ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর মানুষ কভিড-১৯ এর জন্য শারীরিক, অর্থনৈতিক এবং মানসিকভাবে অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমার মতে শিশুরা। কারন তাদের জীবন স্বাভাবিকভাবে একটি প্রতিষ্ঠিত রুটিনে চলে। কিন্তু মহামারিজনিত কারণে তাদের স্বাভাবিক প্রতিদিনের প্রক্রিয়াগুলি উল্টেপাল্টে গেছে।

এর ফলে কিছু শিশু চাপ, উদ্বেগ, রাগ, হতাশা বা শোকের মতো তীব্র নেতিবাচক আবেগগুলির সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ সময় আমাদের অভিভাবকদের একটি গুরুদায়িত্ব হল, এই নতুন সাধারন জীবন যাত্রার সাথে আমার শিশুটি খাপ খাচ্ছে কি না, তার দিকে বিশেষ নজর রাখা।

প্রত্যেক শিশুরই নতুন জিনিসের প্রতি আগ্রহ সব সময় লক্ষ্য করা যায়। সেটা কোন নতুন খেলনা বা কাজ, যে কোন কিছু হতে পারে। একজন শিশু যখন কোন নতুন কাজ শেখার চেষ্টা করে তখন একই সাথে তার মধ্যে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা এবং গর্ব  তৈরি হয়। যেমন এই করোনার মধ্যে পুজার ছুটি, অভিভাবকদের উচিত তাদের শিশুদের বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে এই সময় ব্যস্ত রাখা যাতে এই ছুটিগুলোতে তারা মানসিক ভাবে চাপ মুক্ত থাকে।

প্রত্যেক শিশুর মধ্যে কাজ করার একটি রুটিন হওয়া উচিত। প্রিস্কুলারদের জন্য, পিতামাতার একটি প্রাথমিক রুটিন তৈরি করা উচিত এবং বড় বাচ্চাদের তাদের শিডিউল তৈরি করতে উৎসাহিত করা উচিত। এটি আপনাকে আপনার শিশু সারা দিন কী করছে তা পরিকল্পনা করতে এবং পরিচালনা করতে সহায়তা করবে। এটি শিশুদের শৃঙ্খলা এবং পাশাপাশি তাদের  জীবনের উদ্দেশ্যকে উপলব্ধি করতে শেখাবে। এসময় শিশুদের ব্যস্ত রাখতে বিভিন্ন হাতের কাজ শিখতে অভিবাকরা সাহায্য করতে পারেন, নিজের হাতে করা যে কোন সৃজনশীল কাজ শিশুর মেধা বিকাশ এ সহায়তা করবে। শিশুদের কে ব্যস্ত রাখার আরেকটি সৃজনশীল উপায় হল তাদেরকে প্রতিদিন কোন কিছু লিখতে দেয়া, সেটা যে সবসময় পড়াশুনার বিষয় হতে হবে তা কিন্তু নয়, এই অভ্যাসটা শিশুর যেমন মেধা বিকাশে সাহায্য করবে তেমনি একই  সাথে শিশু তার সব ব্যক্তিগত ভয়, চিন্তাভাবনা এবং অনুভূতি প্রকাশ করে তাদের আবিষ্কার ও করবে।

মানসিক বিষয়গুলোর সাথে প্রত্যেক অভিভাবকের উচিত এ সময় শিশুর শারীরিক বিষয়গুলোর দিকে নজর রাখা,ঘরে বসে থাকার কারনে এমনিতেই শিশুদের ওজন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে,বাবা-মাদের প্রতিদিন উচিত বাচ্চাদের শারীরিক ব্যায়াম অনুশীলন করার অভ্যাস গড়ে তোলা। ঘরে বসেই স্কুল থেকে শেখা শারীরিক চর্চা গুলো প্রতিদিন একটি নিয়ম করে অনুশীলন করার অভ্যাস করতে হবে। প্রকৃতির সাথে সময় ব্যয় করা আপনার সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সবসময় উত্তম কিন্তু এই মহামাররিতে সীমিত সময় এবং সাবধানতার সাথে শিশুকে প্রকৃতির মাঝে নিয়ে যেতে হবে। প্রকৃতির সাথে শিশুর সংযোগ কেবলমাত্র শিশুকে আবেগগতভাবে স্বাচ্ছন্দ্য এবং উন্নত করে তোলে না, এটি শিশুকে আত্মবিশ্বাসী এবং শিশুর শারীরিক সুস্থতায়ও ব্যপক ভূমিকা রাখে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin