করোনা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যাম

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

করোনা ইস্যু অবহেলা করার নয়। আবার যথাযথ ব্যবস্থা নিলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এমনিতেই মানুষের মাঝে এই অজানা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তার উপরে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃষ্ট ডাক্তার, ধার্মিক, পরিসংখ্যানবিদ, আবহাওয়াবিদ, স্ট্যাটাস যোদ্ধা, উদগ্রীব নাগরিক, সমাজ সেবক, একি করলেন অনলাইন পত্রিকার তথ্য বোমা। যাবো কোথায়?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনা ভাইরাস নিয়ে মানুষ কয়েকটি শ্রেণীতে ভাগ হয়ে গেছে।

সব বন্ধ শ্রেণিঃ

এই শ্রেণির মতে এই মুহুর্ত থেকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত, কারখানা, হাসপাতাল, বিমানবন্দর, মোবাইল সব বন্ধ করে দিতে হবে। সরকার কেনো এখনো এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করছেনা তাতে তারা যারপরনাই হতাশ এবং হতবাক।

কিচ্ছু হবেনা শ্রেণিঃ

ইনাদের মতে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় করোনায় মৃত্যুর থেকে অনেক বেশি মানুষ মারা যায়। এরা বিভিন্ন রোগে মৃত্যুর হার তুলে ধরে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন নো টেনশন। কিচ্ছু হবেনা! দেখি কি হয় শ্রেণিঃ ইনারা মাস্ক আর হ্যান্ডওয়াশ কেনার জন্য শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেনা। যদি কোন এক মিরাকল ঘটে আর করোনা ঘুমিয়ে যায় তাহলে হুদাই টাকা খরচ করে কি লাভ ? আরেকটা দিন দেখি। দেখি ফেসবুকে কোন আপডেট আসে কিনা?

পরিসংখ্যানবিদ শ্রেণিঃ

এরা নানা পরিসংখ্যান দিয়ে মাঝে মাঝে আপানাকে আতঙ্কগ্রস্ত করবে আবার মাঝে মাঝে আশাবাদী করবে। এরা মাঝে মাঝে বিগত ১০০ বছরের পরিসংখ্যান আপনার সামনে তুলে ধরবেন আবার আগামি ১০০ বছরের সম্ভাব্য তথ্যও তুলে ধরবেন। আপনি আতঙ্কিত হবেন না আশাবাদী হবেন তা একান্তই আপনার বিষয়।

ধার্মিক শ্রেণিঃ

এরা ধর্মের নানা ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করবে চীনের উপর করোনা একটি আল্লাহ্‌র গজব। অবশ্য বাংলাদেশ, ইরান, কুয়েত, সৌদি আরবে কেনো করোনা ভাইরাস ঢুকলো তার এখনো কোন সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে এই শ্রেণির অনেকের মতে এটা মুসলিম দেশগুলোর জন্য একটা পরীক্ষা।

সব দোষ সরকারের শ্রেণিঃ

এরা অবশ্য নব্য কোন শ্রেণি নয়। যুগে যুগে এই শ্রেণি যে দল ক্ষমতায় থাকুক না কেনো কোন কিছু হলে সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপাবে ঠিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় যেমন দেখতাম বাথরুমের কল নষ্ট হলে শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগ চাইতো! ফেসবুক সেলিব্রেটিঃ এদের নলেজ গরিমা অসীম । এহেন কোন বিষয় নেই যা তাদের অজানা। পাপন থেকে পাপিয়া, কাশি থেকে করোনা সবখানেই তাদের বিস্তার। ইস্যুভিত্তিক এদের লম্বা স্ট্যাটাস বেশ চলে ফেসবুকে। আজ তারা ব্যস্ত আছেন করোনা নিয়ে। কালকের ব্যস্ততা নির্ভর করছে নতুন ইস্যুর উপরে।

ডাক্তার শ্রেণিঃ

এই শ্রেণির সদস্য হওয়ার জন্য আপনার এমবিবিএস সনদের দরকার নেই। ইনাদের কাছে সব রোগের টিপস আছে।

আমজনতা শ্রেণিঃ

এরা উপরের সব শ্রেণির স্ট্যাটাস মাঝে মাঝে পড়েন, মাঝে মাঝে শেয়ার দেন, মাঝে মাঝে লাইক দেন। মাস্ক, স্যানিটাইজার কেনার লাইনে থেকে যখন তার পালা আসে তখন দেখেন স্টক শেষ। দৌড় দেন অন্য দোকানে। কোথাও না পেয়ে ফুটপাত থেকে ২০ টাকার মাস্ক অনেক দরদাম করে ৫৫টাকা দিয়ে কেনেন। লাইফবয় সাবান দিয়ে স্যানিটাইজারের কাজ সারেন। মানুষকে সচেতন করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তবে আসুন সেই তথ্যই মানুষের কাছে পৌঁছে দেই যা ভেরিফাইড। তথ্য প্রদান বা শেয়ার করার আগে ভাবুন তা সঠিক কিনা বা তা সবাইকে আতঙ্কিত করবে কিনা। যে তথ্য মানুষকে সচেতন করবে, যে তথ্য বলে দেবে বিপদে পড়লে আপনাকে কোথায় যেতে হবে, কি করতে হবে সেই তথ্যই প্রদান করুন। সচেতন হোন, নিরাপদে থাকুন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin