করোনায় শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার শঙ্কা বাড়ছে

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

করোনার কারণে স্কুল থেকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার শঙ্কা বাড়ছে- এমন মত শিক্ষাবিদদের। যেহেতু বহু পরিবার আর্থিক সংকটে সন্তানদের নানারকম কায়িকশ্রমে যুক্ত করেছে তাই পরবর্তীতে স্কুল খুললেও তারা আবার পাঠকার্যক্রমে যুক্ত হবে কি না তা অনিশ্চিত। অবশ্য প্রতিমন্ত্রী বলছেন, তারা ঝরে পড়া ঠেকাতে পারবেন।

বিদ্যুতের তার থেকে প্লাস্টিক সরিয়ে তামা আলাদা করছে লাকি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই কাজের মূল্য ৫০ টাকা। তিনবোনসহ এই কাজ করে লাকিদের দৈনিক আয় ১৫০ টাকা। কাজ করলে টাকা, না করলে নেই।

গত মার্চ থেকে সংসার চলছে এভাবেই। অন্যের বাসায় বুয়ার কাজ করা লাকির মা; করোনার শুরু থেকেই কাজ হারিয়েছেন। লাকি স্থানীয় একটি স্কুলে ৫ম শ্রেণিতে পড়তো। ছোট দু’বোনও স্কুল বন্ধের কারণে এখন লাকির মতো এই ভাঙ্গারির দোকানের কর্মী।

লাকি জানায়, তার থেকে তামা বের করা, বোতল আলাদা করা, প্লাস্টিক আলাদা করা। আমরা তিনবোন কাজ করি।

বাপহারা লাকির মা ৫ মেয়ে নিয়ে দিশেহারা।

লাকির মা জানান, আমরা খুবই অসহায়দের মধ্যে আছি। অনেক কষ্টে আছি। করোনার কারণে বাসা বাড়িতে কাজ করতে পারছি না।

কড়াইল বস্তিতে ভাগ্য বিড়ম্বিত এমন লাকি অসংখ্য। লাকির মা তবুও ক্যামেরার সামনে আসতে চেয়েছে, বেশিরভাগই ক্যামেরায় মুখ দেখাতে রাজি নয়। স্কুল খুললে লাকিরা স্কুলে ফিরবে কি না, তা জানা নেই কারো।

সম্প্রতি দুটি বেসরকারি সংস্থার যৌথ গবেষণা বলছে, করোনার কারণে শহর ও গ্রামে নিম্নবিত্ত মানুষের আয় কমেছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন এই আয় কমার সঙ্গে ঝরে পড়ার সম্পর্ক রয়েছে।

শিক্ষাবিদি রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, এখানে স্থানীয় সরকার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দেবেন।

অবশ্য প্রতিমন্ত্রী বলছেন, ঝরে পড়া ঠেকাতে তারা সাধ্যমতো কাজ করছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণলায়ে প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিয়ে আসছি। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের সব ধরনের খোঁজখবর আমরা নিচ্ছি। যেকোন মূল্যে আমরা ঝরে পড়া রোধ করবো।

গত বছর প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার ছিলো প্রায় ১৭ ভাগ ও মাধ্যমিকে প্রায় ৩৮ ভাগ।

সূত্রঃ সময় নিউজ টিভি

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin