করোনায় বেশি ভোগান্তিতে তিন শ্রেণীর মানুষ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

করোনা সংক্রামণ রোধে লকডাউনে শত সাপেক্ষে গার্মেন্ট, শিল্পকারখানা সহ বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। ফলে লকডাউন হলেও ওইসব পেশার মানুষের কিছুটা স্বস্তি থাকলেও ভোগান্তিতে তিনটি শ্রেনির মানুষ। এরা হলেন রিকশা চালক, হকার ও দিনমজুর। লকডাউনে রাস্তায় যেমন মানুষ বের হচ্ছে না তাতে রিকশা চালক পাচ্ছে না ভাড়া, সেই সঙ্গে হকাররা যেমন ফুটপাতে বসতে পারছে না আর বসলেও ক্রেতা নেই আর তাদের চেয়েও করুন অবস্থায় দিনমজুর। কারণ লকডাউনে সব কিছু বন্ধ থাকায় তারাও কোন কাজই পাচ্ছে না। ফলে অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটছে এ শ্রেনির মানুষদের। করোনার শুরুতে বিভিন্ন শ্রেনির পেশার মানুষ পাশে দাঁড়ালেও এবার তারা অসহায়।

গত ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য করোনা সংক্রামণ রোধে সরকার লকডাউন ঘোষণা করেন। ওইসময় গার্মেন্টস, শিল্পকারখানা সহ জরুরী প্রয়োজনের সকল প্রতিষ্ঠান শর্ত সাপেক্ষে খোলার জন্য নিষেধাজ্ঞা সিথিল করে। লকডাউনের সপ্তাহ শেষ না হতেই গত ১৯ এপ্রিল থেকে আরো এক সপ্তাহ লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদে লকডাউন চলমান রয়েছে।

দুপুরে সরেজমিনে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, ‘সড়কের উভয় পাশে বিভিন্ন পয়েন্টে হকার বসতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে প্রেসক্লাবের সামনে, মুক্তি ক্লিনিকের সামনে, সমবায় মার্কেটের সামনে, চাষাঢ়া শহীদ মিনারের পিছনে, শান্তনা মার্কেটের সামনে সহ হর্কাস মার্কেটও খোলতে শুরু করেছে।

হকার কাসেম মিয়া বলেন, ‘রমজানের বেচাকেনা হবে সেই চিন্তাভাবনা থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে মালামাল কিনেছি। কিন্তু রোজা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকার লকাউন দিয়েছে। একদিনও নতুন মালামাল নিয়ে রাস্তায় বসতে পারিনি। যেভাবের মালামাল সেইভাবে ঘরে পরে আছে। আর এভাবে পরে থাকলে আমাদের কোন লাভ নেই। বরং লোকসান। দোকান খোলতে না পারলেও প্রতিদিন সুদ দিতে হচ্ছে। সুদতো থেমে নেই। এভাবে চলতে থাকলে ঘরের আসবাবপত্র বেঁচে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। আমরা কোথায় যাবো।’

তিনি বলেন, ‘বড় লোকের (ধনী ব্যক্তিরা) টাকার অভাব নেই। তার উপর তাদের গার্মেন্টস খোলা আছে। তাদের ব্যবসা ঠিকই চলছে। তাদের জন্য লকডাউন মানে আরম আয়েশের জন্য। তারা ঠিকই গাড়ি দিয়ে কাজে যাচ্ছে, ব্যাগ ভরে বাজার নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছে। তাদের তো কোন চিন্তা নেই। সরকারও তাদের কথা চিন্তা করেই এমন লকডাউন দিয়েছে।’

লকডাউনের শুরুতেই দুর্ভোগে রয়েছে রিকশা চালক, অটোরিকশা চালক ও ইজিবাইক চালকেরা। তাদের অনেকেই লকডাউনের বের হওয়ার অপরাধে আটক করে পুলিশ। ইনকাম না থাকলেও গুনতে হয়েছে কয়েকহাজার টাকা জরিমানাও। অনেকের আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে বসে থাকতে হয়েছে। ভাড়া পাওয়ার সময়টা রোদে পুরে শেষ করে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।

রিকশা চালক তুষার বলেন, ‘লকডাউন আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য অভিশাপ স্যার। আমরা একদিন রিকশা নিয়ে বের না হলে পরদিন না খেয়ে থাকতে হয়। এর মধ্যে লকডাউন দিলে আমরা কি করবো।’

তিনি বলেন, ‘লকডাউনের সাত দিনে ২ হাজার টাকাও ভাড়া পায়নি। কিন্তু দুই দিন ২ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে রিকশা ছাড়িয়ে আনতে হয়েছে পুলিশের কাছ থেকে। আর উল্টো রিকশার জমার টাকা গ্যারেজ মালিক পাওনা রয়েছে। কাজ করে পরিশোধ করবো বলছি। কিন্তু আবারও লকডাউন দিয়েছে। এখন কি খাবো কিভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।’

তুষারের মতো অধিকাংশ রিকশা চালকেরও একই অবস্থা। রিকশা নিয়ে বের হলেও সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত ৫০০ টাকাও ভাড়া পায়নি। ফলে অনেকেই রিকশার জমার টাকা বাকি রাখতে হয়েছে কিংবা জমার টাকা দিলে খালি হতে বাসায় ফিরতে হয়েছে। আর জরিমানার ভয়ে অনেকেই ঘরে বসে সময় কাটিয়েছে।’

দিনমজুর ফয়সাল আহমেদ। তিনি ফতুল্লা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের যোগালী দিতেন। এর জন্য প্রতিদিন ৩০০ টাকা মজুরি পেতেন। কিন্তু লকডাউনের জন্য কাজ বন্ধ থাকায় গত ৭ দিনের এক টাকাও পাননি। ফলে খাবার খরচ সহ ঘর ভাড়া জমে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমি যোগালী ছাড়া অন্য কাজ জানি না। এখন জোগালির কাজ বন্ধ করে রাখছে। কাজ না করলে ঠিকাদার এক টাকাও ধার দেয় না। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে।’

রাস্তায় ইট ভাঙার কাজ করেন ফরিদা বেগম। তিনি বলেন, ‘লকডাউনের প্রথম দুই দিন ঘরের খাবার ছিল খেয়েছি। এর পর থেকে সকাল মুড়ি আর রাতে পানি ভাত খেয়ে কাটছে।’

তিনি বলেন,‘বস্তিতে থাকি। প্রতিদিন ঘর ভাড়া ৫০ টাকা আর খাওয়ার জন্য ১০০ টাকা। এ ১৫০ টাকা কাজও হয় না। কোথাও কোন কাজ নেই। খুব কষ্টে চলছি। গতবার করোনার সময় অনেকেই চাল, আলু, ডাল দিছে। কিন্তু এবার তো কেউ বিস্কুটও দেয়নি। এমন লকডাউন আমাদের জন্য না। করোনা না আইলেও না খেয়ে মারা যামু। কেউ জানবোও না।’

সুত্রঃ নিউজ নারায়নগঞ্জ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin