করোনার উপসর্গ নিয়েও পরীক্ষা করাতে অনিহা

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জ সহ ৭ জেলায় লকডাউন প্রয়োগ করা হলেও কার্যত সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না। উল্টো লকডাউনের ভেতরেই মাস্ক বিহীন চলাচল ও অনর্থক ঘোরাফেরা করছেন অনেকেই। দিনে দিনে জেলাজুড়ে করোনার ঝুঁকি বাড়লেও ভ্রুক্ষেপ নেই জনসাধারণের। অথচ জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকে নারায়ণগঞ্জে করোনার ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে যাবার শঙ্কা প্রবল। তবুও প্রশাসনের কড়াকড়ি না থাকায় ইচ্ছেমত স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে চলাফেরা করছেন বাসিন্দারা।

নারায়ণগঞ্জে লকডাউন থাকা অবস্থাতেই বেড়েছে করোনার সংক্রমনের হার। গত ২৪ ঘন্টায় নারায়ণগঞ্জে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। এর আগের দিন এর সংখ্যা ছিল ২৪ জন। দিনে দিনে সংক্রমনের হার বেড়ে চলায় আবারও বেড সংকট এবং মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। তবে সবচেয়ে আশংকার বিষয় হচ্ছে, অনেকেই করোনার উপসর্গ নিয়েও পরীক্ষা কিংবা হাসপাতালে সেবা নিতে অনিহা প্রকাশ করেন। এতে করে করোনা সংক্রমন আরও বেশী ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের একমাত্র করোনা ডেটিগেটেড হাসপাতাল খানপুরে করোনা রোগীদের সংখ্যা কম বলে জানা গেছে। তবে যারাই আসছেন চিকিৎসা নিতে তাদের অবস্থা অত্যান্ত গুরুতর। অনেকেরই অক্সিজেন ৮০ লেভেলের নিচে। এছাড়া শারীরিক ভাবেও কেউ কেউ অত্যাধিক দুর্বল হয়ে পড়েছেন। সময়মত চিকিৎসা না নিয়ে বসে থাকার কারনেই এই ধরণের রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে বেশী।

নাম গোপন রাখার শর্তে হাসপাতালের এক সিনিয়র নার্স জানান, করোনা রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত বেড ও আইসিইউ খালি রয়েছে। কিন্তু যারা আসছেন তারা অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় আসছেন। এমন পরিস্থিতি থেকে রোগীর বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। যারা আসছেন আমরা তাদের হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেই। কিন্তু রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হতে অনিহা প্রকাশ করেন। এর ফলে তারা শারীরিক ভাবে আরও দুর্বল হয়ে যান। করোনার চিকিৎসা অব্যহত না রেখে বসে থাকলে ভবিষ্যতে তার দেহের ভেতর আরও রোগ ব্যাধি জেঁকে ধরবে।

একই বিষয়ে হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, হাসপাতাল বর্তমানে করোনা রোগীদের সেবার জন্য পুরোপুরি সক্রিয়। রোগীদের সেবার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছে হাসপাতালের প্রতিটি সেকশন। সবকয়টি আইসিইউ সচল রয়েছে। অনেকের দেখা যায় করোনা শনাক্ত হবার পূর্বেই শ্বাসকষ্ট উঠে যায়। এমন অনেক রোগীকে আমরা তাৎক্ষনিক করোনা ধরেই অক্সিজেন দেয়ার ব্যবস্থা করি। একাধিক সুবিধা থাকার পরেও যদি উপসর্গ থাকা ব্যক্তিরা এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ান তাহলে তার পরিবার ও আশেপাশের মানুষরা সংক্রমিত হয়ে পড়বে। উপসর্গ দেখার সাথে সাথেই পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শের মধ্যে থাকা উচিত।

সূত্রঃ নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin