করোনাকালে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে বুয়েটের ভিন্ন রকম উদ্যোগ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

দেশে করোনার কারনে গত বছরের মার্চ মাস থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। সরকার অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর কথা বললেও ইন্টারনেট সমস্যা, ডিভাইস সমস্যার কারনে সব শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা যায়নি এই কার্যক্রমে। এই সব সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে অনলাইনে সকল শিক্ষার্থীদের যুক্ত করতে দেশের সেরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট নিয়েছে এক ভিন্ন কার্যক্রম।

কার্যক্রম সম্পর্কে বুয়েটের শিক্ষকেরা জানান, বুয়েট চিন্তা করে, তাদের সব শিক্ষার্থীর আর্থিক অবস্থা সমান নয়। এখানে অনেকে টিউশনি করেও নিজের পড়াশোনার খরচ চালান। আবার কেউ কেউ অন্য খণ্ডকালীন কাজ করেও পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেন।

সবার কথা চিন্তা করে ৫ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে অনলাইনে নিজস্ব ই-মেইলে দেওয়া ফরমের মাধ্যমে জরিপ চালানো হয়। এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয় কোন শিক্ষার্থীর ইন্টারনেট সংযোগ কেমন? ভালো স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ আছে কি না? আবার ইন্টারনেট কেনার সামর্থ্য আছে কি না। সেখানে ৩৭০ জন শিক্ষার্থী জানান, তাঁদের অনলাইনে ক্লাস করার মতো ভালো ডিভাইস নেই।

বুয়েট সেই শিক্ষার্থীদের অনলাইন আবেদনের ভিত্তিতে কোনো সুদ ছাড়াই ৩০ হাজার করে টাকা দেয়। এভাবে শতভাগ শিক্ষার্থী স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের আওতায় আসেন এবং অনলাইনে ক্লাসের উপযুক্ত হন।

ক্লাস করতে গেলে ইন্টারনেটের ডেটা কিনতে সমস্যা আছে—এমন ১ হাজার ৮০০ জন শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়। তিনটি মুঠোফোন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ইন্টারনেট ডেটা প্যাকেজ চালু করে ৬২৫টি সিম দেওয়া হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে, যাতে তাঁরা ফ্রি ক্লাস-পরীক্ষা দিতে পারেন।

কোন এলাকায় কোন মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক ভালো বা ইন্টারনেটের গতি ভালো, তা জরিপের মাধ্যমে জেনে সেই শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের সেই কোম্পানির সিম দেওয়া হয়। আবার ইন্টারনেটের গতি যদি কোনো এলাকায় ভালো না হয়, তাতে ওই অভিযোগের ওপর নির্ভর করে সেই এলাকায় ইন্টারনেটের গতি উন্নতি করার কথাও জানানো হয়।

একই সঙ্গে শিক্ষকদেরও ভালো ডিভাইসের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য বুয়েট শিক্ষকদের বিনা সুদে ১৩৩ জন শিক্ষককে ৪৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনলাইন পাঠদানের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে অনলাইন ক্লাস শুরু করে বুয়েট।

বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে—এমন শিক্ষার্থীদের ইউপিএস ও পাওয়ার ব্যাংক কেনার জন্য বিনা সুদে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।

বুয়েটের উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, যেহেতু করোনায় বুয়েটের বৈদ্যুতিক বিলের পরিমাণ ও আরও কিছু খরচ কমে যায়, তাই সিদ্ধান্ত হয় বেঁচে যাওয়া এসব খরচ দিয়ে যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপকার হয়, এমন কাজে লাগানো হবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin