করাচীতে ‘গৃহযুদ্ধের’ ভুয়া খবর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে মাতামাতি

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ভারতীয় নিউজ সাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এ সপ্তাহে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এক ভুয়া খবরে দাবি করা হচ্ছিল পাকিস্তানের করাচী শহরে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।

পাকিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছিল যে সৈন্যরা সিন্ধু প্রদেশের পুলিশ প্রধানকে অপহরণ করেছে। শীর্ষস্থানীয় এক বিরোধী রাজনীতিককে গ্রেফতার করতে পুলিশকে বাধ্য করার জন্যই নাকি ঐ পুলিশ প্রধানকে অপহরণ করা হয়। এই খবরের পরই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে করাচীতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে খবর প্রচার করা হতে থাকে।

পাকিস্তানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরটি সীমান্তের ওপারে ভারতীয় গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে অনেক দ্রুত। তবে সেখানে ঘটনার বিবরণ বিস্তৃত হয় অনেক দূর। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হতে থাকে, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই শুরু হওয়ার পর করাচীর বহু পুলিশ অফিসার নিহত হয়েছে। করাচীর রাস্তায় ট্যাংক দেখা গেছে।

টুইটারে একটি ভুয়া ভিডিও চালাচালি হতে থাকে যেটিতে নাকি করাচীর এই কথিত গৃহযুদ্ধের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

কিন্তু বাস্তবে এর কোন কিছুই আসলে সত্য নয়।

এই রাজনীতিকের গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যা ঘটেছিল, তাতে স্থানীয় পুলিশ এবং বিরোধী রাজনৈতিকরা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে কোন সহিংসতাই ঘটেনি।

পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্য রয়েছে তিক্ত বৈরিতা। এই দুটি দেশ যে একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা চালায় সেটাও মোটামুটি জানা। ১৯৪৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর এ পর্যন্ত ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে তিনটি যুদ্ধ হয়েছে।

গতবছর পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন কিছু নেটওয়ার্ককে ফেসবুক নিষিদ্ধ করেছিল। একইভাবে ভারতপন্থী কিছু আন্তর্জাতিক ভুয়া নিউজসাইট এবং থিংক ট্যাংকের আসল চেহারা উন্মোচিত হয়েছিল। মূলত ইউরোপের দেশগুলোতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার জন্য এসব ভারতপন্থী ভুয়া নিউজ সাইট এবং থিংক ট্যাংক চালানো হয়।

তবে এবারের ঘটনায় অনেক ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট এবং নামকরা সংবাদ প্রতিষ্ঠান থেকে পর্যন্ত লাখ লাখ ফলোয়ার এবং পাঠকের কাছে এই খবরটি প্রচার করা হয়েছে, যে খবরটি ছিল একদম ভুয়া।

সূত্রঃবিবিসি নিউজ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin