কঠোর লকডাউন, মধ্যবিত্তের চাপা কান্না

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

দেশব্যাপী চলছে কঠোর লকডাউন। শিল্প-কল কারখানা ব্যাতীত সকল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ। সরকারী চাকুরীজীবি আর গার্মেন্টস শিল্পের সাথে জড়িত জনগোষ্ঠী ছাড়া সবাই কার্যত বেকার। রুটি-রুজি বন্ধ হয়ে অলস সময় পার করছেন সবাই। ধনীরা সবাই জমানো অর্থ খরচ করছেন, গরীব দিনমজুরেরা বের হচ্ছেন কাজের খোজে। কোন দিন কাজ পাচ্ছেন, কোনদিন পাচ্ছেন না। আর মধ্যবিত্ত? গত বছরের লকডাউনে সঞ্চয়গুলো সব শেষ। স্বামীর ব্যবসাকে নতুন করে শুরু করার জন্য বিয়ের স্মৃতি গহনাগুলো বিক্রি করেছেন গিন্নি। সামনের দিন কিভাবে চলবে সেই চিন্তায় স্বামী-স্ত্রী কারো চোখে ঘুম নেই।

আবুল ফজল একজন ছোট ব্যবসায়ী। স্নাতক শেষ করে সরকারী চাকুরির অনেক চেষ্টা করেছেন। ভাগ্য সহায় হয়নি। বয়স ত্রিশের কোটা পেরোনার পর শুরু করেন একটি ব্যবসা। পরিবার থেকে কিছুটাকা নিয়ে শুরু করেন কসমেটিকসের দোকান। বছর দুইয়ের ভিতর ব্যবসা বড় হয়। নারায়ণগঞ্জ শহরে দুটি দোকান ছিল তার। ছিল ৬ জন কর্মচারী। গতবছরের ঈদে কোন ব্যবসা হয়নি। বরঞ্চ দোকান ভাড়া জমে লাখ টাকার উপর দিতে হয়েছে দোকানমালিককে। কিছুদিন আগে একটি দোকান বিক্রি করে দিয়েছেন ফজল। বউয়ের বিয়ের গহনা বিক্রি করে মিটিয়েছেন দোকান ভাড়া আর কর্মচারীদের বেতন। এবছরের রোজার ঈদে কিছুটা ব্যবসা হয়েছে। আশা করেছিলেন আস্তে আস্তে অবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু করোনার ভয়ংকর থাবায় আবারো লকডাউন। মার্কেট বন্ধ, দোকানভাড়া জমছে। শহরের বাসা ছেড়ে বউ-বাচ্চাকে গত বছরই গ্রামে পাঠিয়েছেন। নিজে যেই মেসে থাকেন সেটাও মনে হয় ছেড়ে দিতে হবে। বাড়ি থেকে বউ ফোন দেয় ছোট ছেলের কৌটার দুধ শেষ হয়ে গেছে। বৃদ্ধ বাবার ইনসুলিন আর প্রেশারের ঔষধও শেষ। ডাক্তার বলেছে কোন ভাবেই ঔষধ বন্ধ করা যাবে না। কিভাবে কি করবে কিছুই বুঝে উঠছে না আবুল ফজল। গত এক বছরে ফজল আলীর বয়স যেন ৬ বছর বেড়ে গেছে। চেহারায় আগের মত সজীবতা নেই। অকাল বার্ধক্য যেন চেপে ধরেছে তাকে। স্থির দৃষ্টিতে অপলক চেয়ে আছে দখিনের জানালার দিকে। আকাশটা কালো হয়ে আছে। যে কোন মুহুর্তে ভারী বর্ষন হতে পারে। আকাশ দেখতে দেখতে কখন যে দুচোখ বেয়ে পানি পড়েছে তা বুঝে উঠেনি ফজল আলী।

এ রকম হাজার হাজার ফজল আলী আজ আমাদের আশেপাশে আছে। করোনার ভয়াবহতা আর কঠোর লকডাউনের যাতাকলে পৃষ্ট হয়ে তাদের বর্নিল জীবন আজ বর্নহীন। তাদের চাপাকান্না আজ চার দেয়ালে বন্ধি। এদের নিয়ে সমাজপতিরা ভেবেছে কী? এদের চাপা কষ্ট তাদের অনুভুতির দেয়ালে আঘাত করে কী?

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin