কঠোর লকডাউনে কেমন আছেন বেসরকারি শিক্ষকরা

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

রাফিদ সরকার সদ্য মাস্টার্স শেষ করা শিক্ষার্থী। বাবা হারানো রাফিদের সংসারে আছে ছোট দুই ভাই আর একটি বোন। মায়ের সাথে তার থাকে পটুয়াখালী। সরকারী তোলরাম কলেজে পড়া রাফিদের কাধে সংসারের ভার বছর তিনেক হলো। পরিচিত বন্ধু-বান্ধব আর কলেজ শিক্ষকদের সহায়তায়
কয়েকটি প্রাইভেট টিউশন করিয়ে সংসার চালায় রাফিদ। গত বছরের জানুয়ারিতে অভিভাবকদের অনুরোধে একটি প্রাইভেট কোচিং শুরু করে নগরীর আদর্শ স্কুলের দিকে। প্রথম দিকেই ব্যাপক সাড়া ফেলে রাফিদের কোচিং।

অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হয় রাফিদের কোচিং এ। জানুয়ারী, ফেব্রুয়ারী মাস ভালোই যায় রাফিদের। গত মার্চে করোনা আঘাত হানার পর থেকে রাফিদের কোচিং বন্ধ। বন্ধ ছিল প্রাইভেট টিউশনগুলোও। বছ রের শেষের দিকে কিছু টিউশন হলেও কোচিং আর আগের মত শুরু করতে পারেনি রাফিদ। স্কুল বন্ধ থাকায় থমকে আছে তার কোচিং এর কার্যক্রম। কোচিং এর কার্যক্রম থেমে থাকলেও থেমে নেই কোচিং ভাড়া, বিদ্যুতবিল সহ আনুষঙ্গিক খরচ।

এবছরের শুরুতে রাফিদ কিছুটা গুছিয়ে নিয়েছিল কোচিং। কিন্ত মে মাসের লকডাউন আর জুন মাসের কঠোর লকডাউনে আবারো জীর্ন চেহারায় তার কোচিং। প্রাইভেট টিউশনগুলোও একে একে না করে দিচ্ছে। কিভাবে কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না রাফিদ। বাড়ি থেকে ফোন দেয় মা সংসারের খরচ পাঠানোর জন্য। দোকানে অনেক টাকা বাকি হয়ে গেছে। বাকী টাকা শোধ না করলে দোকানি নতুন করে সদাই দিবে না।

ভয়ঙ্কর এক পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে রাফিদ। কবে এই পরিস্থিতি ঠিক হবে জানা নেই কারো। অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রাফিদ।

রাফিদের মত হাজার হাজার প্রাইভেট শিক্ষক আজ আছে অসহনীয় দুর্দশায়। প্রায় দেড় বছর যাবত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। এই সেক্টরের সাথে জড়িত কেবল সরকারী কর্মকর্তা- কর্মচারী, শিক্ষক ছাড়া সবাই অবর্ননীয় কষ্টের স্বীকার। আত্মসম্মানের ভয়ে কারো কাছে হাত পাতারও সুযোগে নেই জাতি গড়ার এই কারিগরদের। এদের অদৃশ্য চোখের জল কি কেউ হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারছে?

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin