এবারের মত এত কষ্ট নিয়ে বাবার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করিনিঃ শামীম ওসমান

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, এর আগেও অনেকবার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছি। এতদিন আমার কষ্ট লাগেনি

তবে এখন কষ্ট লাগে। কয়েকদিন আগে আমার বাবা, মা ও বড় ভাইসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবরে শ্মশানের মাটি ফেলা হয়েছে।

আজ শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়নে একেএম শামসুজ্জোহার ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে সরকারদলীয় এ প্রভাবশালী সাংসদ এ কথা বলেন।

শামীম ওসমান বলেন, আমার মেঝ ভাই ক্লাস নাইনে থাকতে মুক্তিযুদ্ধে চলে গিয়েছিলেন, বড় ভাইও ছিলেন। আগে মানুষ বলত ওই বাড়ি রাজনীতি করে, তারা সততার প্রতীক। সোনার চামচ মুখে জন্ম নিয়েছি আমরা।

তবে ৭৫ এর পরে একবেলা ভাত খেয়েছি একবেলা খাইনি। ৯০০ টাকার জন্য ফরমফিলাপ করতে পারিনি। ইচ্ছে করলে নারায়ণগঞ্জের অর্ধেক কিনে নিতে পারতেন। পঁচাত্তরের পরে আমার মাকে গিফট করা হীরা মহলও বন্ধক রেখেছিলেন ১৯৭৪ সালে।

বাস্তবতা হলো সেদিন যা দেখেছি আগামীতে দেখবো জানি। সেদিন কোন ধনী লোক এগিয়ে আসেনি। আদমজী মিলের শ্রমিকরা এক টাকা করে চাঁদা দিয়ে ছাড়িয়ে দিয়েছিল। বাবা বলেছিল বাড়িটা এখন আর আমার না তোমরা শ্রমিকের বাড়িতে বড় হচ্ছ। তাই তাদের জন্য কথা বলি।

এমপি শামীম ওসমান বলেন, রাজনীতি মানে এবাদত। রাজনীতি মানে মানুষকে খুশি করে আল্লাহকে খুশি করা। এটা আমার বড় ভাই পেরেছিল, বাবাও পেরেছিল। আমরা হয়ত পারিনি।

তিনি বলেন, তাদের কাউকে সাক্ষী রেখে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিক৷ এটাই আমাদের জন্য প্রাপ্য। সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে গিয়ে বলেছিলাম আমি আর কিছু চাই না। তখন তিনি বললেন, তোমার বাবা আমাদের জন্যেও রক্ত দিয়েছে। তিনি আমারও চাচা।

তিনি কী পরিমাণ আল্লাহ ওয়ালা মানুষ তা আমি দেখেছি৷ আমাদের জীবনের ভরসা নেই। তাই সবাই সবার জন্য মাফ চাই৷ যারা চলে গেছেন আমি তাদের সবার জন্য দোয়া করছি। আপনারা আমার বাবা-মা ও বড় ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন এবং দোয়া করবেন আল্লাহকে খুশি করে যেন মরতে পারি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin