একজন আউয়াল মেম্বার, দক্ষিন মাসদাইরের এক অভিবাবকের নাম

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের একজন সুপরিচিত জনপ্রতিনিধির নাম ছিলো মীর আব্দুল আউয়াল মেম্বার। এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডে দীর্ঘ ২০ বছরের মত মেম্বার ছিলেন তিনি। বাড়ৈভোগ-ঘোষেরবাগ এলাকার বাসিন্দাদের আশা ভরসা আর আস্থার নাম ছিল মীর আব্দুল আউয়াল মেম্বার। মানুষের যে কোনো সমস্যা সমাধানে ঝাপিয়ে পড়তেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে কখনো পিছ পা হন নি।

আর এ জন্যই তার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী থাকলেও ছিলো অনেক শত্রুও। দলমত নির্বিশেষে তিনি ছিলেন সবার অভিভাবক, দলীয় সমস্যা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যা সমাধান করতেও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী। দক্ষিন মাসদাইরের এই সিংহ পুরুষ ২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর প্যানক্রিয়াস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। বলা হয় যে তার জানাজাটি ছিলো মাসদাইরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়, যা একটি তার জনপ্রিয়তা এবং এলাকাবাসীর ভালবাসার অন্যতম নিদর্শন।

এই মেম্বার এর স্বরনে তার এক বাল্য বন্ধু বলেন, “এই এলাকায় অনেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তার হাত ধরেই, তিনি অনেক বড় মনের মানুষ ছিলেন, কখনো নিজের জন্য ভাবতেন না। তিনি নিজের জন্য ভাবলে অর্থনৈতিকভাবে অনেক কিছুই করতে পারতেন কিন্তু তিনি মানুষের জনপ্রতিনিধি ছিলেন এবং নিজের যা ছিলো তা মানুষের সাথেই ভাগাভাগি করছেন। দক্ষিন মাসদাইরের অপর একজন ভোটার বলেন, আউয়াল মেম্বার ছিলেন সাহসী লোক, কাউকে ভয় পেয়ে কথা বলতেন না, তাই তার সময় এলাকায় অরাজকতা করতে দুষ্কৃতকারীদের ভাবা লাগতো কিন্তু এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। তার মৃত্যুতে আমরা একজন বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর হারিয়েছি।

তার মৃত্যর পরে অভিবাবকহীন হয়ে পড়া দক্ষিন মাসদাইরবাসী মনে করেন, তার চলে যাওয়াতে তার স্থান অপূরনীয়। তার পরিবার বন্ধু-বান্ধব ও এলাকাবাসী চোখের জলে এখনো মনে করেন তাকে। মীর আব্দুল আউয়াল মেম্বারের ব্যাপারে তার পরিবার থেকে তার একমাত্র ছেলে মাজহারুল ইসলাম মুন্না জানান, “আমার পিতার নামে আমাদের পরিবার থেকে মীর আব্দুল আউয়াল মেম্বার ফাউন্ডেশন নামে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে, যেখানে কাজ করছে তরুন মেধাবী ও মাসদাইরের ক্লীন ইমেজের কিছু উদীয়মান তরুন।

তারা মনে করেন কৃর্তীমানের মৃত্যু নেই, তাই আউয়াল মেম্বার ফাউন্ডেশন এর সামাজিক গঠনমুলক কাজের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন মীর আব্দুল আউয়াল মেম্বার। আসলে আমার আব্বু মারা যাবার পর অনেকেই কথা দিয়েছিলো পাশে থাকবে, কিন্তু মারা যাবার তিন বছরেও তার কাছের কেউ জিজ্ঞেসা করেনি আমরা কেমন আছি? তার নামে একটি রাস্তা হবার কথা ছিলো সেটিও হয়নি, আসলে সেই সব কিছু শুধুই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর কালক্ষেপন ছাড়া আর কিছুই না। তবে এটা মনে করি, তাকে মানুষ এমনি মনে করবে কারন তার বিকল্প এখনো হয়নি এই এলাকায়।

“আজ মরহুম আব্দুল আউয়াল মেম্বারের ৩য় মৃত্যূবার্ষিকী। দক্ষিন মাসদাইরের এই অবিভাবকের এই মৃত্যুবার্ষিকীতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন মরহুমের একমাত্র পুত্র এবং মীর আব্দুল আউয়াল মেম্বার ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মোঃ মাজহারুল ইসলাম মুন্না।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin