এই শহরের মলিন হাতের মানুষগুলো

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ভাল নেই নগরীর ২০ লাখ মানুষ। উচ্চবিত্তদের কথা বাদ দিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষের দিকে তাকালে বুঝতে কষ্ট হয় না তারা কতটা ভাল আছেন। মলিন মুখে মানুষগুলো কোনমতে, দুবেলা ভাত খেয়ে রোজা রাখছেন। সন্ধ্যায় ইফতারে ছোলা সেদ্ধ ও ডালের বড়া জোটাতেই অনেকের ধারদেনার হার বাড়ছে। ঘরের ছোট ছোট বাচ্চারা এটাসেটার আবদার করে। কিন্তু ওরা তা পায় না। ঈদের কথা মনে আসলেই মনটা মোচড় দিয়ে উঠে। নিম্নবিত্তের ঘরে নেই রোজার আমেজ। প্রতিটি ঘরে এখন কোন রকম ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচার প্রচেষ্টা মাত্র। কাজকর্ম বন্ধ থাকায় সংসারে অভাবের কালো মেঘে ঘেরা প্রতিটি নিম্নবিত্ত পরিবার। চলমান লকডাউনে খরচ বেড়েছে কিন্তু বন্ধ রয়েছে আয়। নগরীর নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা এই তথ্য জানা যায়। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের জনসংখ্যা ২০ লক্ষ। করোনায় লকডাউন এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসা ও চাকরি বন্ধ তাদের সবার। কাজকর্ম বন্ধ থাকায় সংসারে অভাব প্রতিটি নিম্নবিত্ত পরিবারে।

দেওভোগ পাক্কারোড এলাকার শফিউদ্দিন বলেন, বাইরে লকডাউন কিন্তু ঘরে নেই খাবার। আমরা কাজ করে খাই, কারো কাছে হাত পেতে নয়। আমাদের ঘরে খাবার নেই কিন্তু কেউ নেই খবর রাখার। কাজ থাকলে এমন পরিস্থিতিতে আমাদের পড়তে হতো না। রোজায় আগে যে আনন্দ হতো এখন আর সেই আনন্দ নেই। এখন পরিবার নিয়ে কোন রকমে খেয়ে বেঁচে আছি। তিনি পেশায় একজন খুদে ব্যবসায়ী। ভ্যানে করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নারী-পুরুষদের পোশাক ও জুতা বিক্রি করেন। রমজান মাসে তার এ ব্যবসা বেশ জমজমাট। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে গেল বছরের মত এবছর রমজানেও বন্ধ তার ব্যবসা। তাই আর্থিকভাবে অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

বাবুরাইল এলাকার নির্মাণ শ্রমিক সবুজ বলেন, আমরা দিনমজুর কাজ চললে প্রতিদিন হাতে টাকা আসে আর পেটে ভাত জুটে। কাজ বন্ধ থাকলে টাকা থাকে না। করোনার কারণে আমাদের কাজ নেই। আমাদের সীমিত আয়ে জমা থাকে না টাকা। তবুও যে অল্প কিছু টাকা ছিল সাথে ধার-দেনা করেই চলছি এখন। লকডাউনে আমাদের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। গতবছর লকডাউনে বাজে দিন অতিবাহিত করেছি। তাই এবছর লকডাউনের আগেই পরিবারকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। কারণ লকডাউনে কাজ থাকবে না। এখানে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে।

শহরের ডায়মন্ড চত্বরে সেলাই দোকানে কাজ করেন নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, রমজানে দর্জিদের কাজের চাপ বেশি থাকে। তাই আয়ও বেশি হয়। খুব ভালো কাটে আমাদের এ সময়টা। কিন্তু গেল বছর ও এবছর খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছি। আগে রোজায় ইফতারে রাজকীয় ভোজন হতো। এখন কোন রকমে দিন কাটাচ্ছি। এছাড়া আমার সন্তান অসুস্থ তার চিকিৎসাও করাতে পারছি না টাকার অভাবে। এভাবেই কাটছে আমাদের রমজান।

উকিলপাড়ায় কথা হয় ছোট হোসিয়ারীর মালিক রঞ্জিত সাহার সাথে। তিনি বললেন, আমার ঘরে তিনজন মুসলমান কারিগর। দু’জন রোজা রাখে। আমি প্রতিদিন ইফতারের আয়োজন করি। আমার কাছে ইফতার খেতে ভাল লাগে। আমার কষ্ট হলেও ওদের বুঝতে দেইনা। আমি যে মালিক। আমি কার কাছে দুঃখের কথা বলবো। টুকটাক কাজ করছি। কারিগরদের বেতন দিতে পারলেই আমি খুশি। নন্দিপাড়া মোড়ে ফল বিক্রি করে সাহাবুল। জানালেন, এবার বেচাকেনা গতবারের চেয়ে কম। আগে মাল আনলে সন্ধ্যার আগে ভিড় জমে যেত। এখন মানুষের হাতে টাকা নেই। তাই ফলের বিক্রি কমে গেছে।

সূত্র: নিউজ নারায়াণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin