এই বাংলাদেশ রাজাকারের নয়

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

কেন এই বাংলাদেশ রাজাকার, রাজাকার বাচ্চাদের নয়-এটি বুঝতে হলে আপনাকে ১৯৭৫ সালের পরবর্তী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে কারা বাহাত্তরের সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করেছে, কে বা কারা স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে, কে বা কারা দালাল আইন বাতিল করে কুখ্যাত রাজাকারদের জেলখানা থেকে মুক্ত করেছে এবং কে বা কারা মুক্তিযুদ্ধের অমর স্লোগান ‘জয় বাংলা’কে জিন্দাবাদে ঢেকে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছে-এগুলো ভালোভাবে জানতে হবে এবং উপলব্দি করতে হবে।

আবার বাংলাদেশের পঞ্চাশ বছরে দাঁড়িয়ে রাজাকার ও রাজাকারের বাচ্চাদের ১৯৭১ সালের পরাজয়ের ঔদ্ধত্য আর স্বাধীন-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রগুলোও আপনাকে ভালো করে জানতে হবে।

এই যেমন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে-নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগান।

রাস্তার এক পাশ থেকে এক পক্ষ বলছে, ‘৭১ এর দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’। ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই’
‘জয় বাংলা’।।

আবার আরেক পাশ থেকে বলা হচ্ছে, ‘ভারতের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’ ‘জিন্দাবাদ’ ‘জিন্দাবাদ’।।

মজার বিষয় হচ্ছে, এই জিন্দাবাদ দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের অমর স্লোগান ‘জয় বাংলা’কে শুধু ঢেকে দেওয়ারই চেষ্টা হয়নি বরং একশ্রেণির মানুষের মন-মগজ থেকে মুছে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ। আর একজন পাঠককে বানানো হয়েছে স্বাধীনতার ঘোষক।

ওই গোষ্ঠী ১৯৭১ সালে আমাদের বাবা-চাচা মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতের দালাল বলেছে। কারণ, ভারত আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছে। ১ কোটিরও বেশি শরনার্থী বাঙালিকে আশ্রয় দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করেছে। তাই, মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতের দালাল বলতো। সাথে যুক্ত করতো আস্তিক, নাস্তিক, ইসলামের দুশমন ইত্যাদি।

এখনো রাজাকারের বাচ্চাগুলো রাজাকারের মতই আমাকে, আপনাকে কথায়-কথায় বলে ভারতের দালাল। ফেসবুকে এসে বেহেস্ত-দোজখের টিকেট বিক্রি করা শুরু করে। আর ধর্ম ব্যবসা ভালো না হলে তখন শুরু হয় আস্তিক, নাস্তিক আর গজব পড়ার হুমকি-ধামকি।

১৯৭১ সালে রাজাকার বাহিনী আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে মেনে নিতে পারেনি। রাজাকারের বাচ্চারাও আজকের পঞ্চাশ বছরের বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারছে না।

এখানে শুধু রাজনৈতিক দর্শন নয়, বরং প্রবাহিত রক্ত বলে কথা।

আর এই রাজাকার বাচ্চাদের ভালো করে জানতে হলে আপনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলুন, দেখবেন রাজাকারের বাচ্চা আপনাকে ভারতের দালাল বলবে। আপনি বঙ্গবন্ধু আর শেখ হাসিনাকে নিয়ে কথা বলুন বা ফেসবুকে এক লাইন স্ট্যাটাস লিখুন, দেখবেন আপনাকে শেখ হাসিনার চামচা বলে ট্যাগ দিবে। আপনি সরকারের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলুন, দেখবেন আপনাকে তেলবাজ বলবে। আপনি ধর্ম ব্যবসা নিয়ে কথা বলুন, দেখবেন রাজাকারের বাচ্চাদের সাথে এক হয়ে রুহানী সন্তানগুলো আপনাকে নাস্তিক, কাফের, মুরতাদ আর ইসলাম বিদ্বেষী বলার চেষ্টা করবে।

মনে রাখবেন, প্রতিটা মানুষ তার নিজেস্ব সত্তা লুকাতে পারে না। অভিনয় করলেও একটা সময় তার সত্যিকারের লেঞ্জা বেড়িয়ে আসে। আর তাদের লেঞ্জা জানার জন্য ফেসবুক অতি উত্তম সাইট। এখানে বেশিদিন তাদের নিজেস্ব সত্তা লুকিয়ে রাখতে পারে না। আর টাইমলাইন ঘুরে দেখলে প্রতিটা রাজাকারের বাচ্চার সাথে অভিশপ্ত রুহানী সন্তানদেরও খুঁজে পাওয়া যাবে।

রাজাকারের বাচ্চারা বাংলাদেশের জন্য যতটা অভিশাপ, রুহানী সন্তান কিন্তু ততটা নয়। রুহানী সন্তানরা দেশের শত্রু নয় বরং তারা পথভ্রষ্ট ও অন্ধকারে নিমজ্জিত। কিন্তু রাজাকার যেমন ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতা চায়নি, তেমনি রাজাকারের বাচ্চারাও স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ চায় না।

তাই, এদের প্রতিহত করতেই হবে। এই বাংলাদেশ রাজাকারের বাচ্চাদের জন্যে নয়। আমাদের বাংলাদেশের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। রাজাকার বাচ্চাদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin