ঈদকে কেন্দ্রকরে নারী পকেটমার ঘুরছে মার্কেটে

শেয়ার করুণ

ঈদ আনন্দ নির্বিঘ্নে করার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে যানজট ও ফুটপাত হকার মুক্ত রাখা হয়েছে। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে বেড়ে যাওয়া পকেটমার, ছিনতাইকারী ও চুরি ঠেকাতে পুলিশের কোন উদ্যোগে দেখা যায়নি। যার ফলে চুরি ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে ভােগান্তিতে সাধারণ মানুষ।

শহরের চাষাঢ়ায় এক নারী পকেটমারকে আটক করে নারী ক্রেতা। তার মানিব্যাগ থেকে টাকা ও মােবাইল চুরি করে নেওয়ার সময় হাতে নাতে আটক করে। এসময় নারী হওয়ায় সাধারণ মানুষ পুলিশে না দিয়ে ছেড়ে দেয়।

ভুক্তভােগী নারী বলেন, আমার পাশে ক্রেতার মতােই দাঁড়িয়ে ছিল। আমিও ভাবিনি যে পকেটমার হবে। আমি দোকান থেকে অন্য দোকানে গেলে সেও আমার পিছনে পিছনে অন্য দোকানে আসে। বিষয়টি তখনই নজরে আসে। তবে আমি কিছু না বলে আমার মতাে করেই দোকানে জামা কাপড় দেখছি। যেই একটু ভীড় বেড়ে গেল তখনই আমার ব্যাগের চেইন খুলতে শুরু করে।

মােবাইলটা ধরতেই আমি তাকে ধরে ফেলি। তিনি বলেন, বােরখা পড়ে আসে। তাই বুঝার কোন উপায় নেই চোর না মহিলা। এর আগেও একবার মার্কেট করতে এসে দেখি ব্যাগ থেকে মােবাইল ও টাকা নেই। টানবাজার এলাকার বাসিন্দা হারাধন দাস বলেন, সম্প্রতি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে রাত ২টার দিকে বাসায় ফিরছিলাম।এসময় সঙ্গে আমার স্ত্রী, মা ও মেয়ে ছিল কয়েকজন ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশাের ধারালাে অস্ত্র হাতে আমাদের ইজিবাইকের গতিরােধ করে।

প্রতিবাদ করতে চাইলে আমার তাতে ধারালাে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তখন সঙ্গে থাকা মােবাইল, নগদ ৪ হাজার টাকা সহ আমার স্ত্রীর গলার স্বর্ণের চেইন ও মেয়ের হাতের আংটি নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, থানায় গিয়ে অভিযােগ দিলে কোন লাভ হবে না। বরং মামলা পাই করে নিজেরাই হয়রানির শিকার হতে হয়। সেজন্য থানায় আর কোন অভিযােগ দেয়া হয়নি।

ইয়ান মার্চেন্ট ক্লাবের পক্ষ থেকে রাতে টানবাজার এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব নার পালন করা প্রহরীরা বলেন, প্রতিরাতে ১১টার পর থেকে বহিরাগত উঠতি না
বয়সের উশৃঙ্খল কিশােরদের আনাগােনা বেড়ে যায়। মাদকাসক্ত এসব বাংছেলেদের কিছু বললে খারাপ ব্যবহার করে। এরাই মূলত ছিনতাই করে।

ডিআইটি এলাকার ব্যবসায়ী রমজান বলেন, “মণ্ডলপাড়া ব্রীজ এলাকায় একদল ছিনতাইকারী সবসময় অবস্থান করে। কখনাে কোন নিরীহ মানুষ এ দেখলেই ধারালাে অস্ত্র দেখিয়ে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়। প্রায় ডিআইটি ও মন্ডলপাড়ার আশে পাশে ছিনতাইয়ের খবর পাওয়া যায়।

চাষাঢ়া জিয়া হলের সামনে ও মহিলা কলেজের সামনে থেকে ডাকবাংলাে মােড় পর্যন্ত বিভিন্ন সময় চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলেও অভিযােগ রয়েছে
স্থানীয় দোকানদার ও এলাকাবাসীর। রেললাইনে অবস্থান করা মাদকাসক্তরাই মূলত এসব কর্মকান্ড করে থাকে দাবি দোকানদারদের।

এছাড়াও জানা গেছে, রাত ১১টা থেকেই শহরের চাষাঢ়া ও আশে পাশেbএলাকায় একদল উঠতি বয়সের কিশাের ঘুরে বেড়ায়। যারা বিভিন্ন মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান থেকে পণ্য চুরি করে। এরাই আবার কোন মানুষকে একা পেলে ধারালাে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মূলবান জিনিসপত্র রেখে দেয়।


অনেক সময় প্রতিবাদ করতে গেলে ধারালাে অস্ত্রের আঘাতে আহতও করে। ভুক্তভােগী চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদির বলেন, পুলিশ যেভাবে
যানজট ও ফুটপাত হকার মুক্ত করেছে। এভাবে ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের বিরুদ্ধে অভিযান করলে মানুষ শান্তিতে ঈদ করতে পারবে।


অন্যথায় ঈদের কেনাকাটা করতে এসে চুরি ছিনতাইয়ের হাতে পড়ে সব কিছু হারাবে আমার মতাে সাধারণ মানুষ। তাই অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হােক।

সূত্রঃ সময়ের নারায়ণগঞ্জ

নিউজটি শেয়ার করুণ