ইতিহাস-ঐতিহ্য এর কিশোরগঞ্জ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

 লেখকঃ মুরাদ হাসান

গুরুদয়াল সরকারী কলেজ,কিশোরগঞ্জ

প্রত্যেকটা মানুষেরই নিজের অঞ্চলের প্রতি টান থাকে। আমার ক্ষেত্রে তা অনেকটা বেশি। কেননা আমি কিশোরগঞ্জের সন্তান। আমার জেলার রয়েছে সুবিশাল ঐতিহ্য। কিশোরগঞ্জের ইতিহাস প্রাচীন ও ঐতিহ্য।১৭৮৭ খ্রীষ্টাব্দের ০১ মে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয় বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা।

কিশোরগঞ্জ জেলা তখন‌ ময়মনসিংহের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিভিন্ন ইতিহাস থেকে জানা যায় মহাকাব্যের যুগে কিশোরগঞ্জ কামরূপ রাজ্যের অন্থগর্ত ছিল। কিশরগঞ্জে গুপ্ত,বর্মন, পাল, সেন বংশসহ অনেক বংশ রাজত্ব করে।কিন্তু কোনো বংশয় পুরোপুরি নিয়নত্রণ করতে পারেনি।কারণ কিশোরগঞ্জে , ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন‌ রাজ্য ছিল।জঙ্গলবাড়ি ছিল স্বাধীন রাজ্যের পীঠস্থান। ১৮৬০ সালে কিশোরগঞ্জ মহকুমার জন্ম হয়। মহকুমার প্রথম প্রশাসক ছিলেন মি: বকলেস।অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে কিশোরঞ্জ কাঠকালী নামে পরিচিত ছিল।

কিশোরগঞ্জের নামটি এসেছে জমিদার ব্রজকিশোর মতান্তরে নন্দকিশোর প্রামাণিকের কিশোর এবং তার প্রতিষ্ঠিত হাট বা গঞ্জের গঞ্জ যোগ করে কিশোরগঞ্জ নামকরণ করা হয়েছে। ১৮৬০ মহকুমা হওয়ার সময় থানা ছিল তিনটি। যথা:নিকলী, বাজিতপুর ও কিশোরগঞ্জ।পরবর্তিতে ১৯৮৪সালের০১ ফেব্রুয়ারি ১৩টি থানা নিয়ে জেলা গুষণা করা হয় এবং জেলার প্রথম প্রশাসক ছিলেন জনাব এম এ মান্নান। জঙ্গলবাড়ির কোব রাজা লক্ষ্যন হাজরা,সুশংরাজ রগুপতি আর এগারসিন্দুর বেবুদ রাজার কাহিনী কিংবদন্তী।

বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্যের প্রথম রচয়িতা দিজ্ববংশী দাশের বাড়ি কিশোরগঞ্জ।তাঁরই কন্যা মধ্যযোগের আদিকবি চন্দ্রাবতী।তিনি রামায়ণের সার্থক অনুবাদকারী ফোকলোর কাব্যের নায়িকা। কিশোরগঞ্জের মাটির পরতে পরতে রয়েছে লোকসংস্কৃতি।সাবিনা,মলুয়া,মাধবী,মালঞ্চি কয়ন্যার অঞ্চল কিশোরগঞ্জ।শিল্পক্ষেত্রে এ জেলার অসংখ কীর্তিমান দেশে ও বাইরে রেখেছেন অসামান্য অবদান।তাদের মধ্যে নিরোধ চন্দ্র চৌধূরী,উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী,সুকুমার রায়, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, ডঃওসমান গনি এবং শিল্পপতি জহুরুল ইসলাম অন্যতম।

দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি হাসপতাল বায়েজিৎপুরে জহুরুল ইসলামের দেয়া।অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের বাড়িও কিশোরগঞ্জ।তিনি সড়ক নিরাপত্তা চায় আন্দোলনের জন্য জাতিসংঘে প্রশংসিত হয়েছেন। কিশোরগঞ্জ হাওর অঞ্চল হওয়ার কারণে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়।যা দিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার অধিকাংশ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে।

এছাড়া এই জেলায় প্রচুর ধান উৎপাদন হয়।যা দেশের খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী খাবার হচ্ছে রসমঞ্জুরি ও বালিশ মিষ্টি। সারাদেশে সুপরিচিত এবং সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ।যা জন্ম দিয়েছে দুইজন রাষ্ট্রপতিকে। এছাড়াও এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ শুলাকিয়া ঈদগাহ কিশোরগঞ্জে অবস্থিত।দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেডিকেল কলেজ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ কিশোরগঞ্জে অবস্থিত। কিশোরগঞ্জের দেখার মতো এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে হাওর।

বর্ষায় যখন হাওর যখন জীবন্ত হয়ে ওঠে তখন হাজার হাজার পর্যটক হাওর দেখতে আসে।ইশা খাঁর জঙ্গলবাড়ির দূর্গ, এগারসিন্ধুর, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ,গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, ঐতিহ্যবাহী শহীদি মসজিদ, ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদ, জমিদার মানব বাবুর বাড়ি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান।

দেশ পরিচালনায় পিছিয়ে নেই কিশোরগঞ্জ।স্বাধীণতার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনজন রাষ্ট্রপতি কিশোরগঞ্জের। তাঁরা হলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দেশ পরিচালনায় অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছেন। আমি কিশোরগঞ্জে জন্মেছি বলে গর্বিত।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin