আলীরটেক ইউনিয়ন বাসীর আশা একটি সুষ্ঠ নির্বাচন

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ডিজিটালের এই যুগে ভাঙা কুলায় আস্থা রাখতে চান না আলীরটেক ইউনিয়নবাসী। তাদের দাবী নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন তারা। তাই সৎ সাহস নিয়ে লড়াইটা ভোটের ময়দানেই চালিয়ে যাওয়ার দাবী এলাকার সাধারণ ভোটারদের।

আলীরটেকবাসী দাবী একেএম সেলিম ওসমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গত ২০১৬ সালে আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে তার শ্যালক হিসেবে দাবী করা মতিউর রহমান মতিকে সমর্থন করেন। আলীরটেক বাসী সংসদ সদস্যের সম্মান দেখিয়ে অটোপাশের চেয়ারম্যানকে মেনে নিয়েছেন।

কিন্তু এবারো এমপি সেলিম ওসমানের একই আবদার নিয়ে আলীরটেকবাসীর গাড়ে চাপিয়ে দিতে চাচ্ছেন নিজেই ভাঙ্গাকুলা উপাধি দেওয়া মতিউর রহমান মতিকে। নির্বাচন মানে সরাসরি জনগনের ভোটে নির্বাচিত হওয়া হলেও জনগনের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে অটোপাসের দিকেই আগাতে চাচ্ছেন এমপি সেলিম ওসমান। মুখ বলা শ্যালকের পক্ষ নিতে গিয়ে এমপি সেলিম ওসমান নিজের সুনামকেই ক্ষুন্ন করছেন বলে মত আলীরটেকবাসীর।

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে মহানগর হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান লিখেছেন এমপি সেলিম ওসমান আলীরটেক ইউনিয়নবাসীকে এই ডিজিটাল বাংলাদেশে ভাঙ্গা কুলা জনগনের উপর চাপিয়ে দিতে চায়।

এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এমপি সেলিম ওসমানের দেওয়া বক্তব্যের ভাঙ্গা কুলা শিরোনামের সংবাদটি শেয়ার দিয়ে নিজেদের মতামতের কথা লিখেছেন। যেখানে প্রত্যেকেই আলীরটেক ইউনিয়নে ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার দাবী তুলেছেন।

এদিকে আবারো বিনা ভোটে নির্বাচনী বৈতরনী পার হওয়ার মিশনে নেমেছেন আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি।

সে লক্ষ্যে এই করোনাকালীন সময়ে শুক্রবার ২৯ জানুয়ারী বিকেলে আলীরটেকে শেখ রাসেল স্কুল মাঠে ইউনিয়নবাসীর সাথে মত বিনিময়ের নামে জনসভা করেছেন মতিউর রহমান মতি।

যেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানও এটাকে জনসভা বলে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তিনি বক্তব্যে বলেছেন প্রয়োজনে তিনি আলোচনা কওে আগামী নির্বাচনে তিনি মতিউর রহমানকেই চেয়ারম্যান হিসেবে রাখতে চান। সেই লক্ষ্যে তিনি আরো দুইজন ব্যক্তিকে ওই সভায় আমন্ত্রন পাঠিয়ে ছিলেন। কিন্তু ওই দুইজন ব্যক্তির নাম তিনি উল্লেখ করেননি।

তবে মতিউর রহমানের এমন জনসভা আগামী নির্বাচনে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মিশনের প্রথমধাপ বলে উল্লেখ করেছেন আলীরটেক এলাকার অনেকেই।

উক্ত ওই দুই ব্যক্তি উপস্থিত না হওয়ায় অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে সেলিম ওসমান বলেন, আমি আরো দুইজনকে দাওয়াত পাঠাই ছিলাম। কিন্তু উনারা আসেন নাই। আপনারা আসতেন আমার সাথে তর্ক করতেন। পকেটে পয়সা আছে নির্বাচন করবেন ভুলে যাবেন না আগের দিন আর নাই। এখন মানুষ পয়সা খেয়ে আর ভোট দেন না।

এর আগে মতিউর রহমান মতির ও তার অনুসারীদের মাধ্যমে এলাকায় প্রচার করা হয় আগামী নির্বাচনের জন্য চেয়ারম্যান সাহেবের দুলাভাই (এমপি সেলিম ওসমান) তাকে গ্রীণ সিগনাল দিয়েছেন প্রমান স্বরূপ দুবাইতে সেলিম ওসমানের পরিবারের সাথে মতিউর রহমান মতির সাথে একটি সৌজন্য সাক্ষাতের ছবিও দেখিয়ে বেড়িয়েছেন।

মতিউর রহমানের পক্ষ থেকে পূর্বে চালানো প্রচার এবং ২৯ জানুয়ারীর মতবিনিময় সভায় নামে জনসভায় এমপি সেলিম ওসমানের বক্তব্যে অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এমপি সেলিম ওসমান আবারো মতিউর রহমানকে সমর্থন দিয়ে গতবারের ন্যায় বিনা প্রতিদ্ব›দ্ধীতায় চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে যাচ্ছেন।

তবে আলীরটেক ইউনিয়নের বাসিন্দাদের দাবী আগামী নির্বাচনে তারা নিজেদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করেই তাদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। তারা বিনা ভোটে আর কোন জনপ্রতিনিধি তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হোক এমনটা তারা চান না।

সূত্রঃ নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin