আমি এই প্রজন্ম থেকে বলছি

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

আপনারা আমাদের জন্য একটি খেলার মাঠ দিতে পারেননি, কিন্তু বিশ্বমানের খেলোয়াড় হতে বলেছেন সবসময়। আমরা কী নিয়ে খুশি থাকবো, আমাদের সুখি হবার কোন রাস্তা কী আপনারা রেখেছেন? 

এক দিকে সত্যবাদী হতে বেলেছেন অন্যদিকে যখন বাসায় কেউ আপনাকে খুঁজতে আসে, আপনি জেগে থেকে বলেছেন আপনার সন্তান কে, বলো বাবা ঘুমিয়ে আছে। আপনাদের চিন্তার বাহিরে যে অনেক চিন্তা আছে তা আপনারা বেশিরভাগ সময় মানতে চাননি। যখন অন্যায় হলে বলার কথা ছিলো অন্যায় এর প্রতিবাদ করবে কিন্তু শিখিয়ে দিয়েছেন, বাবা সাতে পাঁচে থাকবেনা। 

যখন আপনারা বলেছেন ডাক্তার হও, ইঞ্জিনিয়ার হও কিংবা ব্যারিস্টার হও, আমরা চেয়েছিলাম গায়ক হতে, মাঠে দৌড়াতে। আপনারা যেই ডাক্তার এর কথা ভেবে গর্বিত হোন। কখনো কি ভেবেছিলেন, তাদের যখন বিষন্নতায় গ্রাস করে তারাও কোন সঙ্গীতের সুরে আর কথায় নিজেকে আবার চাঙা করে? যদি সঙ্গীত না থাকতো এই পৃথিবীর এতো রাগ কে মানাতো?অথচ, আপনাদের কাছে শুধু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার আর ব্যারিস্টারই প্রিয়। 

আচ্ছা, মানবতার জ্ঞানের কথা কখনো কী আপনার সাথে আর আমার সাথে হয়েছিলো? আমাদের সুন্দর সকল মানবীয় ইচ্ছা গুলো আপনাদের দানবীয় চাওয়া তে বিলিয়ে গিয়েছে। আপনি আমাদের বনসাই গাছের মত করে রেখেছেন। আমাদের বীজের কোন সমস্যা নেই। শুধু আমাদের যেই পরিমান জায়গার দরকার ছিলো তা আপনারা আমাদের দিতে ব্যর্থ।

হয়তো এই প্রজন্ম বট বৃক্ষের মতোই  বিশাল হতো, শুধু আমাদের ৬ ইঞ্চি ফুল টবের মধ্যেই আপনারা রেখেছেন। এই প্রজন্মের অনেক শিশু কে খেলার জন্য শুধু  ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, কারন পোড়াশানার চাপে খেলার সময় কই? বার্ষিক পরীক্ষা পর ছাড়া খেলার মাঠে যাওয়া বারন।

ফুল টবের মধ্যে গজে উঠা বনসাই গাছ বেশি উঁচু হতে পারেনা। কিন্তু ওই বনসাই গাছের বীজে কোন সমস্যা আছে কি? শুধু মাত্র জায়গা আর সুযোগের অভাবে একটি বিশাল গাছ হতে পারেনা। তেমনি খেলার মাঠ, অনুপ্রেরণা, মানবিক শিক্ষা এবং সংস্কৃতির সঠিক চর্চা ছাড়া এই প্রজন্ম দেশ ও জাতিকে কত দূর নিয়ে যেতে পারবে তা সময়ের উপর ছেড়ে দেই আপাতত।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin