আইভীর সামনে যত চ্যালেঞ্জ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ঈঙ্গিত দেওয়ায় উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে জেলার রাজনীতি।

টানা দুই মেয়াদে সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব পালন করা সেলিনা হায়াৎ আইভী এবারও নির্বাচন করবেন এটা অনেকটাই নিশ্চিত। এবার মেয়র নির্বাচিত হতে হলে মেয়র আইভীকে কোন কোন সম্ভব্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে তা নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক ।

দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হবার পর থেকে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করাটা এখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকা এবং চট্রগ্রাম সিটি নির্বাচনে সাম্প্রতিক নির্বাচনে সাঈদ খোকন এবং আ.জ.ম নাসিরকে বাদ দিয়ে নতুন মুখ এনে চমক দিয়েছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ। অবশ্যই প্রার্থীদের গ্রহনযোগ্যতা, উন্নয়নমুলক কাজকে বিবেচনায় নিয়েছে দলটি। নারায়ণগঞ্জে চুনকা পরিবার এবং ওসমান পরিবারের আলাদা আলাদা রাজনৈতিক বলয় রয়েছে। দলীয় মনোনয়নের জন্য যদি ওসমান পরিবারের কেউ মনোনয়ন চায় আইভীকে তাহলে অবশ্যই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো জোর গুঞ্জন চলছে আইভীর বিরুদ্ধে নোমিনেশনের জন্য লড়বেন ওসমান পরিবারের দুই পুত্রবধূ পারভীন ওসমান কিংবা লিপি ওসমান। কোন কারনে ওসমান পরিবারের কেউ দলীয় ননিনেশন পেলে আইভীর জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আর দলীয় মনোনয়ন না পেলেও যদি ওসমান পরিবারের কেউ নির্বাচন করে তাহলেও আইভীর জন্য অবশ্যই এটা চ্যালেঞ্জের হবে।

সিটি নির্বাচনের আগে শামীম ওসমানের ওয়ার্ড ভিত্তিক কর্মী সভার প্রস্তুতি। আলিশান বাড়িওয়ালাকে আমরা চাই না এই ধরনের কথাই প্রমান করে আইভীর পাশে থাকছে না আওয়ামীলীগের বিশাল একটা অংশ।

নির্বাচন নিয়ে ইসির ইঙ্গিতের পর পরই জেলার কিছু গণমাধ্যম প্রকাশ্যে আইভীর বিরুদ্ধে লেখালেখি করে যাচ্ছে। পাশাপাশি আইভীর উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরেও লিখছে কিছু মিডিয়া হাউজ। মেয়র আইভীর উন্নয়নের ফিরিস্তি কিংবা বিরুদ্ধচারনের মাত্রা কেমন হয়, সরকারী দল এসব বিষয় কিভাবে নেয় সেটাও দেখার বিষয়।

বিএনপি এই কমিশনের অধীনে কোন নির্বাচনে যাবে না বলে ঘোষণা দিয়ে রেখেছে আগে থেকেই। কিন্তু অন্যান্য নির্বাচনের ন্যায় শেষ মুহুর্তে যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে তাহলে আইভীকে চ্যালেঞ্জর মুখেই পড়তে হতে পারে। আর হিসাবটা যদি এমন হয় আইভী, ওসমান পরিবার এবং বিএনপি যদি মেয়র নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে হাড্ডা হাড্ডি লড়াইয়ের মুখেই পড়তে হবে আইভীকে।

এছাড়া হেফাজতে ইসলামও সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহনের আভাস দিয়েছে। বহু আলেম এবং মাদ্রাসার নগর নারায়নগঞ্জের সিটি কর্পোরেশনে ধর্মভিত্তিক অরাজনৈতিক এই দলের রাজনৈতিক ময়দানে অবির্ভুত হওয়াকে জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভালোভাবে নিচ্ছেন না। কোন বিশেষ মহলকে সুবিধা দিতেই এই তাদের রাজনীতিতে আগমনের আভাস বলে মনে করেন তারা।

নির্বাচনের আভাস দেওয়ার পর পরই ক্রমেই সিটি কর্পোরেশনের স্থানীয় রাজনীতি চাঙ্গা হতে শুরু করেছে। করোনার ধাক্কা সামলে রাজনীতিবিদরা আবারো ফিরছেন রাজপথে।

আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী দুই পরিবার অনেকটা কৌশলে নিজেদের সুদৃঢ় অবস্থানের কথা জানান দিচ্ছে। সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে ফের উত্তপ্ত হবে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মঞ্চ তার আভাস এখন থেকেই অনেকটা পাওয়া যাচ্ছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin