আইপিএলের জুয়ার উত্তাপে পুড়ছে মাসদাইরের যুব সমাজ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

জামাল হোসেন (ছদ্মনাম ) পেশায় একজন চায়ের দোকানদার। গাইবান্ধা থেকে নারায়ণগঞ্জ এসেছেন বছর ছয় হলো। এক মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে চায়ের দোকানের কল্যানে ভালোই চলছিল তার সংসার। ফারিহা গার্মেন্টসের পাশে দোকান হওয়ায় সবসময় ভীড় লেগেই থাকে দোকানে।

গত দুদিন যাবত জামালের দোকান বন্ধ। পরিচিত অনেক কাস্টমার এসে ফেরত যাচ্ছেন। জামালের কোন খোজ পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ জামালের লাপাত্তা হওয়ার কারন জানা গেল পাশের মুদি দোকানীর কাছ থেকে। আইপিএল শুরু হবার পর থেকে জামালের দোকানে নিয়মিত টিভিতে চলতো আইপিএলের ম্যাচগুলো। ম্যাচ শুরু হবার সাথে সাথে আকস্মিকভাবে দোকান পূর্ন হয়ে যেত। আইপিএলের উত্তেজনার পাশাপাশি আইপিএলের অন্ধকার জুয়াও চলতো সমান তালে। কাচা টাকার নেশায় পড়ে জামাল ও জড়িয়ে পড়ে জুয়ার গোলক ধাধায়।

আর বিভিন্ন জনের থেকে ধার-দেনা করে জুয়ায় হেরে সর্বস্ব হারিয়েছে সে। পাওনাদারদের টাকা পরিশোধের ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছে জামাল। বলছিলাম দক্ষিন মাসদাইরের এক চায়ের দোকানদারের কথা। শুধু দক্ষিন মাসদাইর নয়, মাসদাইরের প্রায় প্রতিটি চায়ের দোকান, সেলুন কিংবা রিক্সার গ্যারেজ সব যায়গায় আইপিএলের ম্যাচ দেখার নামে চলছে জুয়ার রমরমা ব্যবসা। শিক্ষার্থী কিংবা রিকশাওয়ালা, নিন্মবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান সবাই ক্রমেই জড়িয়ে পড়ছে জুয়ার এই নেশায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জুয়াড়ির সাথে কথা বলে জানা যায়, আইপিএলের প্রত্যেকটা ম্যাচ নিয়েই জুয়া চলে।

৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০০ টাকা পর্যন্ত জুয়ার রেট হয়। প্রতিদিন গড়ে ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ হাযার টাকা পর্যন্ত টাকার লেনদেন ঘটে এসব চায়ের দোকানগুলোতে। আর মোট হিসাবে এই পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকার জুয়ার টাকা হাত বদল হয়েছে আইপিএল কে কেন্দ্র করে। লোক সমাগম বেশী থাকায় বেচা বিক্রি হয় ভালো। আবার জুয়ার টাকার একটা অংশ কমিশন হিসেবে পায় দোকানদার। তাই কাচা টাকার লোভে পড়ে সকল দোকানদারই নিজের দোকানে বসিয়েছেন টিভি।

কিস্তিতে টিভি কেনার চিত্রও অহরহ মাসদাইরের অলিতে-গলিতে। এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে মাসদাইরের গাইবান্ধা বাজার, ফারিহা গার্মেন্টসের মোড়, ঘোষের বাগ ও বেকারির মোড়, জামালের গ্যারেজ সংলগ্ন চায়ের দোকানগুলোতে নিয়মিতই জুয়া চলে। এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট থানার কোন মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি। মাসদাইরে জুয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে বিশৃঙ্খলা। চুরি, ছিনতাই সহ নানা ধরনের অসামাজিক কার্যক্রম বেড়েছে আগের তুলনায় অনেক ।

করোনা মহামারীর এই সময়ে সাস্থ্যবিধির কোন তোয়াক্কা না করে চায়ের দোকান, সেলুন কিংবা রিক্সার গ্যারেজের আড়ালে চলতে থাকা এই জুয়ার আসর ক্রমেই সামাজিক ব্যাধিতে রুপান্তরিত হয়েছে। সামাজিক শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারী এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি মাসদাইরবাসীর।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin