অভিনব পদ্ধতিতে নগরবাসীর পকেট কাটছে পকেটমাররা

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ঘড়ির কাটায় বিকাল সাড়ে তিনটা ছুই ছুই। আষাঢ়ের মৃদু বৃষ্টি উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে সান্তনা মার্কেটের সামনে থেকে মৌমিতা বাসে উঠলেন সিএনজি ড্রাইভার তারা মিয়া। চাষড়া মোড় পেরিয়ে বাসটি যখন শীতল বাস কাউন্টারের সামনে হুড়মুড় করে বাসে উঠে পড়লো ৫ জন মধ্যবয়স্ক লোক। একেকজন একেক যায়গায় বসে পড়লেন। তারা মিয়ার পাশে বসলেন একজন। ট্রাফিকের বাশির অনবরত আওয়াজ আর মোড়ের বাস শ্রমিকদের প্রতিরোধে বাস বেশীক্ষন থামলো না। জ্যাম ঠেলে ধীরে ধীরে বাস এগিয়ে চলছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ধরে।

শিবু মার্কেট পেরিয়ে বাস চলছে। রাস্তা মোটামুটি ফাকা। ফাকা রাস্তা পেয়ে ড্রাইভার গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দিয়েছে। বাসের হেলপার ভাড়া নেয়া শুরু করেছেন। ৬০℅ বর্ধিত ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সাথে হালকা বাকবিতণ্ডা চলছে। কিছু যাত্রী ফাকা রাস্তার বাতাস গায়ে লাগিয়ে হালকা ঝিমুচ্ছে। তারা মিয়াও হেলান দিয়ে আছেন। দুপুরের ক্লান্তি তারা মিয়াকে চেপে ধরেছে, হালকা ঝিমুনিতে চোখ বুজে আসে তারা মিয়ার।
হঠাৎ তারা মিয়ার ঝিমুনি কেটে যায় পাশের লোকের কারনে। পাশের লোক বমি করে দেয় তারা মিয়ার উপর। হঠাৎ এই ঘটনায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন তারা মিয়া। সিট ছেড়ে উঠতে উঠতে বাস এসে পড়ে ফতুল্লা স্টেডিয়াম। ৫ জনের সবাই নামার জন্য উঠলে জটলা বাধে বাসে। জটলা ঠেলে সবাই নেমে যায়। তারা মিয়ার সাথের লোক ও নেমে যায় ধুকতে ধুকতে। তারা মিয়া বাসের পিছনে গিয়ে শরীর পরিষ্কার শুরু করেন। টিস্যু খুজতে পাকেটে হাত দিতেই তারা মিয়ার মাথায় হাত। পকেটে থাকা তার সারাদিনের রুজি লুট হয়ে গেছে। বাস তখন স্টেডিয়াম ছেড়ে জালকুড়ির কাছাকাছি। কিছুক্ষন বাকরুদ্ধ থেকে তারা মিয়া আবার বসলেন তার সিটে। তার চোখে মুখে রাজ্যের ক্ষোভ আর হতাশা।

এভাবেই নিত্যনতুন পদ্ধতিতে নিয়মিত নগরবাসীর পকেট কেটে যাচ্ছে কয়েকটি চক্র। জনগনের নিরাপত্তায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত উদ্যোগ নিবে এই প্রত্যাশা নগরবাসীর।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin