অপরাধীদের কাছে এক মূর্তমান আতংকের নাম ওসি আসলাম

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

গার্মেন্টস থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক গার্মেন্টকর্মী কিশোর গ্যাংয়ের হাতে গণধর্ষণের শিকার হয়। ওই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অপ রাধীরা সবাই পুলিশের হেফাজতে।
ভাবছেন ছবি কিংবা নাটকের কোন দৃশ্য বর্ননা করছি। যদি এমনটা ভেবে থাকেন তাহলে আপনাকে বলছি ঠিক এমন টাই ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের পাগলা গুদারাঘাটে।
এ রকম দৃশ্য আরো অনেক ঘটেছে ফতুল্লা থানার অন্তর্গত বিভিন্ন এলাকায়।

২৭ আগস্ট রাতে ফতুল্লার দাপাইদ্রাকপুর এলাকার নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তানের হাতে খুন হন জামাল নামে এক প্রবাসী। হত্যার এ ঘটনা আড়াল করতে দ্রুত লাশ দাফনের চেষ্টা করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।

ওই দিনই ফতুল্লা থানার ওসি ওই বাড়িতে উপস্থিত হয়ে লাশের সুরতহাল দেখে নিহতের স্ত্রী শারমীন আক্তার (৪০), মেয়ে সামিয়া আক্তার (২০) ও ছেলে তানভীর হাসান ডালিমকে (১৮) আটক করেন। আটককৃতরা পরে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

২ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দেলপাড়া এলাকায় ডিম ব্যবসায়ী জামাই-শ্বশুর কিশোর গ্যাংয়ের কবলে পড়েন। এ সময় কিশোর গ্যাংয়েরর সন্ত্রাসীরা জামাই বিল্লাল ও শ্বশুর রাজুকে কুপিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ভ্যানভর্তি ডিম কুপিয়ে ভেঙে ফেলে সন্ত্রাসীরা।

এ ঘটনায় ওই দিনই সিয়াম ও রমজান আলী নামে দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনই আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

২ সেপ্টেম্বর রাতে ফতুল্লার পাগলা তালতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ জুয়াড়িকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ৬১ হাজার টাকা ও তাস জব্দ করে পুলিশ। ওই জুয়াড়ি স্পটটি প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল।

১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ফতুল্লার বক্তাবলী ফেরিঘাটে বেলাল নামে এক চালককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা শেষে তার মৃতদেহ নদীর তীরে ফেলে ইজিবাইক ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় ওই রাতেই পুলিশ তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
এ রকম অসংখ্য অপরাধ দমনে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে ফতুল্লা থানা পুলিশ। আর এই সকল কার্যক্রম সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ওসি আসলাম হোসেন। দক্ষতা আর পেশাদারী আচরনের কারনে খুব অল্প সময়েই ফতুল্লাবাসীর কাছে আস্থা অর্জন করেছে ফতুল্লা থানা পুলিশ। পুলিশের অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন করার কারনে লাগাম টেনে ধরা গেছে অপরাধের মাত্রার।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন গনমাধ্যমকে বলেন, “অপরাধ দমনে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় যে কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে তা সহজেই দ্রুত দমন করতে পারি।

সততা আর নিষ্ঠার সঙ্গে থানার সব অফিসার ও সদস্যকে নিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করি। অপরাধী যেই হোক কিংবা রাজনৈতিক দলেরও যদি হয় কাউকে ছাড় দিই না। প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে অপরাধবিষয়ক সভা করি। সভায় মাদক, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, জঙ্গিবাদসহ কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এসব অপরাধীকে সভা থেকে হুশিয়ারি দিয়ে থাকি, এতেই অনেক অপরাধীই অপরাধ থেকে বিরত থাকে।

তিনি আরও বলেন, অন্য সময়ের চেয়ে বর্তমানে ফতুল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। অপরাধ দমনে এলাকাবাসীসহ সবার সহযোগিতা পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশল পাল্টাচ্ছে। আমরাও তাদের ধরতে কৌশলী হয়েছি। সম্প্রতি একাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে প্রাইভেটকারসহ গ্রেফতার করেছি। মাদক শূন্যের কোঠায় নেয়ার চেষ্টা করছি। এ ছাড়া প্রতিটি এলাকার সন্ত্রাসীদের তালিকা আপডেট করা হয়েছে। কোন এলাকায় কোন সন্ত্রাসী গ্রুপ কী করছে তারও খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা অপরাধ দমনে পুলিশের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং ফতুল্লা থানা হবে একটি আদর্শ মডেল থানা।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin