অদূরে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন তৎপরতা বেড়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

চলতি বছরের ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হতে পারে সোনারগাঁ ও তারাব পৌরসভার নির্বাচন। আগামী বছরের মার্চ মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে কয়েকধাপে অনুষ্ঠিত হতে পারে ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনও। এর কিছুদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে পারে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭ টি ওয়ার্ড ও মেয়র পদে নির্বাচনী লড়াই। সবশেষে হতে পারে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচন। স্থানীয় সরকারের এ সকল নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই বেড়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা। নির্বাচনী সভা-সমাবেশের আড়ালে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় চলছে মতবিনিময়, পরিচিত সভা ইত্যাদি।

জানা যায়, স্থানীয় সরকারের এসব নির্বাচনের এখানো কয়েক মাস বাকি থাকলেও এখন থেকেই তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান, সদস্য (মেম্বার), কাউন্সিলর, মেয়র প্রার্থীরা। বাড়িয়ে দিয়েছে নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী তৎপরতা। কোনো কোনো ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় এই তোড়জোড়ের ব্যাপকতা দেখা যাচ্ছে অনেকদিন আগে থেকেই। নানা সমীকরণে ভোটের মাঠে প্রভাব-প্রতিপত্তি থাকে এমন ভোটারদের বাড়িতে কেউ কেউ গিয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং কুশল বিনিময়র করছেন বলেও জানা যায়।

এখানেই থেমে থাকছেন না সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তাদের তৎপরতা দেখে সহজেই অনুমেয় যে ইতিমধ্যেই ভোটের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এবং স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোকে সামনে রেখে বাড়ি, পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার ও রাজনৈতিক কার্যালয়গুলো এখনই প্রায় সরগরম হয়ে উঠছে। কোথাও কোথাও প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করার বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করছে। অন্যান্য সময়ে খুব একটা খোঁজ-খবর না রাখলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমানে অনেকেই এলাকার ভোটারদের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। সেই নির্বাচনে ১৫ জন সাধারণ সদস্য ও ৫ জন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন জনপ্রতিনিধিদের ভোটের মাধ্যমে। সুত্র অনুযায়ী ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরেই হবে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচন। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর। সেই নির্বাচনে মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে মোট ২০১ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেছিলো। এর মধ্যে মেয়র পদে ৭ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৫৬ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন প্রতিদ্বন্দি ছিলো। যেখানে ভোটার সংখ্যা ছিলো ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩১ জন। ঐ নির্বাচনে শত বাধা সত্তে¡ও মেয়র পদে জয়ী হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এছাড়া ২৭ টি সাধারণ ওয়ার্ডে ২৭ জন পুরুষ কাউন্সিলর এবং ৯টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে ৯জন মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩ মাস আগে নতুন করে নির্বাচনের অনুষ্ঠিত করতে হবে। সেই হিসাবে আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে আগামী নাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা যায়।

এ নির্বাচনকে সামনে রেখে ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। পাশাপাশি বিএনপি ও আওয়ামীলীগের অন্যান্য মেয়র পদ-প্রত্যাশীরাও নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে এবং মনোনয়ন পেলে নির্বাচনী বৈতরনী পার হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নিজ নিজ দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, দলীয় স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মন করতে গোপনে গোপনে কাজ করে চলেছেন বলেও জানা যায়।

শুধু তাই নয়, করোনাকারীণ সময়ে দেশে যে কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো সে সময়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে হতদরিদ্র ও অসহায়দের পাশে দাড়াতে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছেন। একইসাথে ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর ও তাদের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দীরাও করোনাসহ উদ্ভুত যে কোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় এলাকার জনগনের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

অপরদিকে, সোনারগাঁ ও তারাব এ ২টি পৌরসভার নির্বাচনও ঘনিয়ে এসেছে বলে জানা যায়। পৌরসভাগুলোর নির্বাচন এ বছরের ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বলে জানা যায়। সেই হিসাবে ৫টি পৌরসভা তথা তারাব পৌরসভার বর্তমান মেয়র হাসিনা গাজী, সোনারগাঁও পৌরসভার সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিয়মিত এলাকাবাসীর খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। মেয়র ছাড়াও পৌরসভাগুলোর নির্বাচিত সদস্য ও তাদের প্রতিদ্বন্দিরাও আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা যায়।
এছাড়া, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় নির্বাচন হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। আগামী বছরের জানুয়ারী-ফেব্রæয়ারীর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র হতে জানা গেছে। সেই হিসাবে মাঠ পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নেতাকর্মীরা নিজ নিজ প্রার্থীদের পক্ষে অভ্যন্তরীণভাবে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছে বলে জানা যায়।
জানা যায়, জেলার ৩৮ ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে আড়াইহাজার উপজেলায় ১০টি, বন্দর উপজেলায় ৫টি, সদর উপজেলায় রয়েছে ৭টি, রূপগঞ্জ উপজেলায় ৭টি এবং সোনারগাঁ উপজেলায় ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।

এসব ইউনিয়নগুলোর মধ্যে মামলাজনিত কারণে সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদটির নির্বাচন হয়না দীর্ঘ ২৮ বছর যাবৎ। এছাড়া বাকী ৩৭ টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী তফসিলের বাকী আছে ৩ থেকে ৪ মাস। তাই এসব ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান, মেম্বার, নারী মেম্বার ও তাদের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দী ও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতিমধ্যেই নির্বাচনী মাঠে নেমে সীমিত সংখ্যক নেতাকর্মী সাথে নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বলে জানা গেছে।


সব মিলিয়ে বলা যায়, দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি সহ সকল সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এ নারায়ণগঞ্জে জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী তোড়জোড়া শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচন করতে আগ্রহী এমন সম্ভাব্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর, পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে ততপর হয়ে উঠেছে। আগামী দু/চার মাসের মধ্যে পুরোদমে নির্বাচনী উত্তাপে প্রকাশ্যের সরগরম হয়ে উঠবে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের আনাচে কানাচে এমনটাই মনে করছে জেলাবাসী।

সূত্রঃ সময়ের নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin